বিষয়বস্তুতে যান বিষয়বস্তুতে যান
প্রিমিয়াম বিশ্লেষণ

ক্রিকেটে নো বলের নিয়ম: ৫ বদল ২০২৬-এ

ক্রিকেটে নো বল হলে ব্যাটিং দল অন্তত ১ রান পায়, বলটি বৈধ ডেলিভারি হিসেবে গণনা হয় না এবং সীমিত ওভারের ম্যাচে পরের বলে ফ্রি হিট আসতে পারে। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১ অনুযায়ী, বোলারের সামনের পা প...

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ 5 min read
ক্রিকেটে নো বলের নিয়ম: ৫ বদল ২০২৬-এ
❦

ক্রিকেটে নো বলের নিয়ম: ৫ বদল ২০২৬-এ

ক্রিকেটে নো বল হলে ব্যাটিং দল অন্তত ১ রান পায়, বলটি বৈধ ডেলিভারি হিসেবে গণনা হয় না এবং সীমিত ওভারের ম্যাচে পরের বলে ফ্রি হিট আসতে পারে। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১ অনুযায়ী, বোলারের সামনের পা পপিং ক্রিজের সীমা অতিক্রম করলে, পেছনের পা রিটার্ন ক্রিজের বাইরে থাকলে, কোমরের ওপর বিপজ্জনক ফুলটস হলে বা বল পিচে পড়ার আগে একাধিকবার বাউন্স করলে নো বল হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের একদিনের ও টি-টোয়েন্টি শর্তে নো বলের মূল জরিমানা ১ রান; ব্যাট, বাই, লেগ বাই বা বাউন্ডারির রানও এর সঙ্গে যোগ হয়। নো বলে ব্যাটার সাধারণত বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ বা স্টাম্পড হন না; রান আউট, অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড এবং দুইবার বল মারার মতো সীমিত উপায় থাকে। তাই আম্পায়ারের হাতের সংকেত, বলের বৈধতা এবং ম্যাচের খেলার শর্ত—এই তিনটি একসঙ্গে যাচাই করুন।

মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইনবইয়ের পাশে মাঠে আম্পায়ার নো বলের সংকেত দিচ্ছেন

ব্যাটিং নোটস-এ ক্রিকেটের নিয়ম, ম্যাচ বিশ্লেষণ এবং খেলোয়াড়ের পরিসংখ্যান পড়ার সময় নো বলের ঘটনাকে শুধু “অতিরিক্ত এক রান” হিসেবে দেখলে আসল প্রভাব ধরা পড়ে না। একটি নো বল ওভারকে দীর্ঘ করে, ব্যাটিং দলকে নতুন সুযোগ দেয় এবং টি-টোয়েন্টিতে পরের ডেলিভারিকে ফ্রি হিট বানাতে পারে। তবে ফ্রি হিট প্রতিটি ক্রিকেট ম্যাচের সার্বজনীন আইন নয়; এটি সাধারণত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল, বোর্ড এবং প্রতিযোগিতার খেলার শর্তে নির্ধারিত হয়। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১ মূল কাঠামো দেয়, আর ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড বা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিযোগিতা আলাদা অতিরিক্ত শর্ত যোগ করতে পারে। মাঠে সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ হলে স্কোরকার্ড, ম্যাচের নিয়মপত্র এবং আম্পায়ারের সংকেত মিলিয়ে দেখা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। ক্রিকেটের আম্পায়ারের সংকেতের নির্দেশিকা

বিষয়টির পূর্ণ নিয়ম এক জায়গায় দেখে নিতে চাইলে এই সংক্ষিপ্ত নির্দেশনাটি কাজে লাগবে।

আরও জানুন

সামনের পা ক্রিজ ছাড়ালে কী করবেন?

সামনের পায়ের কোনো অংশ পপিং ক্রিজের পেছনে মাটিতে বা নিয়মসিদ্ধ অবস্থানে না থাকলে ডেলিভারি নো বল হয়। বোলারের পেছনের পা রিটার্ন ক্রিজের বাইরে সম্পূর্ণ চলে গেলেও একই সিদ্ধান্ত হতে পারে। আম্পায়ার সাধারণত ডান হাত কাঁধ বরাবর পাশে প্রসারিত করে নো বলের সংকেত দেন এবং বলটি বৈধ বল হিসেবে ওভারে যোগ হয় না।

ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি দেখা নো বল হলো ফ্রন্টফুট নো বল। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১.৫ অনুযায়ী, ডেলিভারির সময় সামনের পায়ের কিছু অংশ নির্ধারিত ক্রিজের পেছনে থাকা দরকার; শুধু পায়ের ডগা লাইনের ওপর ছুঁয়ে আছে কি না, সেটি টেলিভিশন রিপ্লেতে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তাই সরাসরি ক্রিজের দাগ দেখলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না—পায়ের অবস্থান, মাটির সঙ্গে সংযোগ এবং বোলিং ক্রিজের জ্যামিতি একসঙ্গে বিচার করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ম্যাচে তৃতীয় আম্পায়ার প্রযুক্তির সাহায্যে ফ্রন্টফুট পরীক্ষা করতে পারেন, বিশেষত ভারত, অস্ট্রেলিয়া বা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ম্যাচে। এই নো বলের রান ব্যাটারের ব্যক্তিগত স্কোরে যোগ হয় না, কিন্তু দলের স্কোরে যোগ হয়; ব্যাটে বল লাগলে ব্যাটারের রান আলাদাভাবে যুক্ত হবে। Source: মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের ক্রিকেট আইন

খেলার কৌশল বোঝার জন্য তিনটি বিষয় আলাদা করে রাখুন:

  1. সামনের পা পপিং ক্রিজের পেছনে আছে কি না।
  2. পেছনের পা রিটার্ন ক্রিজের ভেতরে আছে কি না।
  3. বলটি ওভারের বৈধ ডেলিভারি হিসেবে গণনা হয়েছে কি না।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা হলো, নো বলের সংকেত দেরিতে দেখা গেলেও বলের বৈধতা বদলে যায় না। ব্যাটার ক্যাচ দিয়ে আউট হলে, প্রথমে নো বল হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে; নো বল হলে সেই ক্যাচে আউট দেওয়া যাবে না। এই কারণেই নো বলের সিদ্ধান্ত স্কোর, উইকেট এবং ফ্রি হিট—তিন স্তরে প্রভাব ফেলে। ব্যাটিং নোটসের ম্যাচ পর্যালোচনায় এমন ঘটনায় শুধু বোলারের ভুল নয়, ডেলিভারির পরের বলের কৌশলও দেখা উচিত।

কোমরের ওপর ফুলটস হলে কী করবেন?

ব্যাটার স্বাভাবিকভাবে সোজা হয়ে পপিং ক্রিজে দাঁড়িয়ে আছেন ধরে নিয়ে বলটি পিচে না পড়ে কোমরের উচ্চতার ওপরে পৌঁছালে সেটি বিপজ্জনক ফুলটস হিসেবে নো বল হতে পারে। কোমরের উচ্চতা মাপা হয় ব্যাটারের অবস্থানকে ভিত্তি করে, বোলারের উচ্চতা বা বলের গতিপথকে নয়। আম্পায়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন।

এখানে দর্শকদের একটি সাধারণ ভুল হয়: কোমরের ওপর দিয়ে যাওয়া প্রতিটি বলকে একইভাবে বিচার করা হয় না। বলটি ব্যাটারের কাছে পৌঁছানোর সময় কোথায় ছিল, ব্যাটার স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়েছিলেন কি না এবং বলটি পিচে পড়েছিল কি না—এসব গুরুত্বপূর্ণ। পিচে পড়ে পরে লাফিয়ে কোমরের ওপরে উঠলে সেটি সাধারণত ফুলটস নো বলের একই শ্রেণিতে পড়ে না, যদিও বিপজ্জনক বাউন্সারের আলাদা নিয়ম থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের টি-টোয়েন্টি ও একদিনের খেলার শর্তে কোমরের ওপরে ফুলটসকে বিপজ্জনক বলে বিবেচনা করা হয় এবং বোলারের বিরুদ্ধে সতর্কতা জমা হতে পারে। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১.৭ এবং প্রতিযোগিতার নির্দিষ্ট শর্ত পাশাপাশি পড়া দরকার, কারণ শাস্তির ধাপ ফরম্যাটভেদে আলাদা হতে পারে।

এখানে একটি কম আলোচিত তথ্য আছে: ব্যাটার ক্রিজের বাইরে এগিয়ে গেলে কোমরের উচ্চতা নির্ধারণের দৃষ্টিকোণ বদলে যেতে পারে, কিন্তু ব্যাটারকে লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃত বিপজ্জনক বল ছোড়ার বিধান আলাদা। তাই রিপ্লেতে শুধু বলের উচ্চতা নয়, ডেলিভারির মুহূর্তে ব্যাটারের অবস্থানও দেখুন। ২০২৬ সালের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতা দেখার সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সাধারণ আইন ধরে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সেই টুর্নামেন্টের খেলার শর্ত পড়া ভালো। ক্রিকেটে বাউন্সার ও শর্ট বলের নিয়ম

ফুলটসের ক্ষেত্রে দর্শক বা বিশ্লেষক হিসেবে এই তালিকাটি ব্যবহার করুন:

  • বল পিচে পড়েছিল কি না।
  • ব্যাটারের মাথা ও কোমরের তুলনায় বলের উচ্চতা কোথায় ছিল।
  • ব্যাটার স্বাভাবিক অবস্থানে ছিলেন কি না।
  • আম্পায়ার বিপজ্জনক বোলিংয়ের সতর্কতা দিয়েছেন কি না।
  • পরের বলটি ফ্রি হিট কি না।

নিয়মের ভাষা নিয়ে বিভ্রান্তি হলে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের নীতিটি মনে রাখা যায়: “নো বলের জন্য ব্যাটিং দলের স্কোরে এক রান যোগ হবে।” তবে এই এক রানই পুরো ঘটনা নয়; বলটি আবার করতে হয়, ব্যাটে লাগা রানও যোগ হয় এবং সীমিত ওভারে ফ্রি হিটের চাপ তৈরি হয়। এই পার্থক্যটি না বুঝলে লাইভ স্কোর দেখে সহজেই ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়।

এই পর্যায়ে নো বলের রান কীভাবে স্কোরকার্ডে জমা হয়, তা মিলিয়ে দেখা বেশ কাজে দেয়।

আরও জানুন

বল অস্বাভাবিক হলে কী করবেন?

বলটি পিচে পড়ার আগে একাধিকবার বাউন্স করলে, গড়িয়ে এলে, বোলারের হাত থেকে ছোড়ার বদলে স্পষ্টভাবে নিক্ষিপ্ত হলে বা অনুমতি ছাড়া আন্ডারআর্ম ডেলিভারি হলে আম্পায়ার নো বল ডাকতে পারেন। উইকেটকিপারও বল ব্যাটারের কাছে পৌঁছানোর আগে নির্ধারিত অবস্থান ছাড়লে নো বলের কারণ তৈরি হতে পারে। এসব ঘটনা ফ্রন্টফুট নো বলের চেয়ে কম দেখা গেলেও নিয়মগতভাবে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১-এ বোলারের বৈধ ডেলিভারি, বলের বাউন্স এবং ফিল্ডিং দলের অবস্থান নিয়ে একাধিক শর্ত আছে। উদাহরণ হিসেবে, বল ব্যাটারের কাছে পৌঁছানোর আগে উইকেটকিপারকে উইকেটের পেছনে নির্ধারিত অবস্থানে থাকতে হয়; অযথা সামনে এগিয়ে গেলে আম্পায়ার নো বল দিতে পারেন। একইভাবে, বোলার বল ছাড়ার আগে ফিল্ডারদের অবস্থান বদল বা বিভ্রান্তিকর আচরণ করলে প্রাসঙ্গিক আইনে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের খেলার শর্ত এবং ম্যাচ পরিচালনা নীতিতে এসব বিধান আরও নির্দিষ্ট হতে পারে। তাই শুধু বলের গতি দেখে নো বল বিচার করা ঠিক নয়; বোলারের হাত, উইকেটকিপারের অবস্থান এবং পুরো ফিল্ডিং সেটআপ দেখা দরকার।

টি-টোয়েন্টি ম্যাচে উইকেটকিপার স্টাম্পের সামনে এগিয়ে আসায় আম্পায়ার নো বলের সংকেত দিচ্ছেন

নো বলের একটি কার্যকর শ্রেণিবিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:

পরিস্থিতি ফল
সামনের পা ক্রিজের বাইরে নো বল, ১ অতিরিক্ত রান
কোমরের ওপর বিপজ্জনক ফুলটস নো বল, সম্ভাব্য শাস্তিমূলক সতর্কতা
পিচে পড়ার আগে একাধিক বাউন্স নো বল
অনুমতি ছাড়া আন্ডারআর্ম বল নো বল
বৈধ বলের বাইরে ওয়াইড ওয়াইড, নো বল নয়

ওয়াইড ও নো বল গুলিয়ে ফেলা খুব স্বাভাবিক, কিন্তু স্কোরিংয়ে পার্থক্য আছে। নো বলের ক্ষেত্রে বল ব্যাটের নাগালে থাকলে ব্যাটার রান নিতে পারেন এবং অতিরিক্ত রান নো বল কলামে যায়; ওয়াইডে ব্যাটারের শট সাধারণত প্রযোজ্য নয়, কারণ বলটি পৌঁছানোর সীমা পেরিয়ে গেছে। আবার কোনো ডেলিভারি একই সঙ্গে ব্যাটারের নাগালের বাইরে এবং নো বলের শর্ত পূরণ করলে নো বল আগে প্রাধান্য পায়, ওয়াইড নয়। এই অগ্রাধিকারটি লাইভ স্কোর বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ নিয়মের পাতায় প্রায়ই যথেষ্ট পরিষ্কারভাবে বলা হয় না।

ক্রিকেট আইন বা টুর্নামেন্টের খেলার শর্ত দ্রুত তুলনা করতে চাইলে এই সম্পর্কিত পড়াটিও সংরক্ষণ করতে পারেন।

আরও জানুন

সাধারণ কোন ভুলগুলো এড়াবেন?

নো বল বোঝার সময় সবচেয়ে বড় ভুল হলো ধরে নেওয়া যে প্রতিটি নো বলে ব্যাটার সব ধরনের আউট থেকে নিরাপদ। নো বলে বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ এবং স্টাম্পড হওয়া যায় না, কিন্তু রান আউট, অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড এবং হিট দ্য বল টুয়াইস ধরনের আউট প্রযোজ্য থাকতে পারে। ব্যাটার নো বলে রান নিতে গিয়ে ক্রিজের বাইরে থাকলে ফিল্ডিং দল রান আউট করতে পারে, এমনকি বলটি ব্যাটে না লাগলেও।

আরেকটি ভুল হলো ফ্রি হিটকে আইন ২১-এর অংশ ভাবা। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের ক্রিকেট আইন নো বলের মৌলিক ফল নির্ধারণ করে, কিন্তু ফ্রি হিট হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতার খেলার শর্তে থাকা সীমিত-ওভার সুবিধা। টেস্ট ক্রিকেটে নো বলের পর সাধারণত ফ্রি হিট থাকে না, অথচ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি, একদিনের আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের মতো প্রতিযোগিতায় খেলার শর্ত অনুযায়ী তা থাকতে পারে। তাই ২০২৬ সালের কোনো ম্যাচের ক্ষেত্রে পুরোনো স্মৃতি নয়, ম্যাচের নির্দিষ্ট নিয়মপত্র দেখুন। টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেটের নিয়মের পার্থক্য

দর্শকের ভুল কমাতে এই পাঁচটি পরীক্ষা ব্যবহার করুন:

  1. আম্পায়ার নো বলের সংকেত দিয়েছেন কি না।
  2. স্কোরবোর্ডে অতিরিক্ত রান কোন কলামে গেছে।
  3. বলটি ওভারের ডেলিভারি হিসেবে গণনা হয়েছে কি না।
  4. পরের বলে ফ্রি হিট চিহ্নিত আছে কি না।
  5. উইকেট পড়লে আউটের ধরন কী লেখা হয়েছে।

প্রযুক্তির ব্যবহারও সবসময় একই নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রতিযোগিতায় সামনের পা পরীক্ষা করতে তৃতীয় আম্পায়ার দ্রুত রিপ্লে দেখতে পারেন, কিন্তু ঘরোয়া বা ক্লাব ক্রিকেটে টেলিভিশন প্রযুক্তি নাও থাকতে পারে। সিদ্ধান্ত বদলানোর অধিকার, আম্পায়ার পরামর্শ এবং মাঠের পর্যালোচনা ব্যবস্থা প্রতিযোগিতা অনুযায়ী আলাদা। এই কারণে কোনো ভিডিও ক্লিপ দেখে সরাসরি “ভুল আম্পায়ারিং” বলা ঝুঁকিপূর্ণ; আগে দেখতে হবে সেই ম্যাচে তৃতীয় আম্পায়ারের ক্ষমতা কতটুকু ছিল এবং কোন খেলার শর্ত কার্যকর ছিল।

একটি অফিসিয়াল ব্যাখ্যায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বলেছে, “নো বল হলে পরের ডেলিভারি ফ্রি হিট হতে পারে”—এখানে “হতে পারে” শব্দটিই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফ্রি হিট ফরম্যাট ও প্রতিযোগিতার শর্তের ওপর নির্ভরশীল। ব্যাটিং দলকে তাই ফ্রি হিটের আগে ফিল্ডিং পরিবর্তন, ব্যাটারের পছন্দের শট এবং বোলারের সম্ভাব্য ইয়র্কার—সব বিশ্লেষণ করতে হয়।

৩০ দিনের যাচাই কীভাবে করবেন?

৩০ দিনের যাচাই বলতে প্রতিদিন নতুন নিয়ম মুখস্থ করা নয়; বরং ৩০টি ম্যাচ বা ডেলিভারি পর্যবেক্ষণ করে নো বলের কারণ, স্কোরিং এবং পরের বলের ফল নথিভুক্ত করা। এই পদ্ধতিতে ফ্রন্টফুট নো বল, কোমরের ওপর ফুলটস, ওয়াইড এবং ফ্রি হিটের পার্থক্য চোখে পরিষ্কার হয়। প্রতিটি নোটে ম্যাচের তারিখ, ফরম্যাট, প্রতিযোগিতা এবং প্রযোজ্য খেলার শর্ত লিখুন।

একটি সহজ পর্যবেক্ষণ ছক তৈরি করুন:

  • ম্যাচ: বাংলাদেশ বনাম ভারত, ঢাকা বা চট্টগ্রাম।
  • ফরম্যাট: টেস্ট, একদিনের আন্তর্জাতিক, টি-টোয়েন্টি বা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ।
  • নো বলের কারণ: ফ্রন্টফুট, ফুলটস, বাউন্স, কিপারের অবস্থান বা অন্য কিছু।
  • স্কোরিং: ১ অতিরিক্ত রান, ব্যাটের রান, বাউন্ডারি বা রান নেওয়া।
  • পরের বল: সাধারণ বল, ফ্রি হিট বা নতুন ওভার।
  • উইকেট: আউটের ধরন এবং নো বলের প্রভাব।

তথ্য যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল, মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটকে অগ্রাধিকার দিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছোট ভিডিওতে বলের আগের অংশ কাটা থাকতে পারে, তাই শুধু শেষ মুহূর্ত দেখে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্যাটিং নোটসের নিয়মভিত্তিক বিশ্লেষণে স্কোরকার্ড, বল-বাই-বল তথ্য এবং অফিসিয়াল ম্যাচ রিপোর্ট একসঙ্গে ব্যবহার করা ভালো। এই ৩০ দিনের পদ্ধতি বিশেষভাবে কাজে আসে যারা ম্যাচ বিশ্লেষণ, ধারাভাষ্য বা ক্রিকেট পরিসংখ্যান নিয়ে নিয়মিত কাজ করেন।

ক্রিকেট বিশ্লেষক ল্যাপটপে বল-বাই-বল স্কোরকার্ড দেখে নো বলের তথ্য নোট করছেন

সবচেয়ে দরকারি সিদ্ধান্তটি হলো: নো বলকে আলাদা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখবেন না। এটি ওভারের দৈর্ঘ্য, ব্যাটিং দলের সম্ভাব্য রান, বোলারের চাপ, ফ্রি হিট এবং কখনও ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ম্যাচ হোক বা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের লড়াই, নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণের ভিত্তি একই—মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন, প্রতিযোগিতার খেলার শর্ত এবং আম্পায়ারের মাঠের সংকেত মিলিয়ে দেখা। নিয়ম জানা থাকলে নো বলের বিতর্ক কমে, আর ম্যাচ দেখার আনন্দও অনেক বেশি নির্ভুল হয়।

নিয়ম, স্কোরকার্ড এবং ম্যাচ বিশ্লেষণ একসঙ্গে অনুসরণ করতে চাইলে ব্যাটিং নোটসের ক্রিকেটভিত্তিক কভারেজ দেখুন।

আরও জানুন

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: ক্রিকেটে নো বল কী?

উত্তর: ক্রিকেটে নো বল হলো এমন অবৈধ ডেলিভারি, যার জন্য ব্যাটিং দল সাধারণত ১ অতিরিক্ত রান পায় এবং বলটি ওভারের বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না। সামনের পা ক্রিজের বাইরে যাওয়া, কোমরের ওপর বিপজ্জনক ফুলটস, একাধিক বাউন্স বা অনুমতি ছাড়া আন্ডারআর্ম ডেলিভারি এর কারণ হতে পারে। সীমিত ওভারের খেলায় এই ডেলিভারির পর ফ্রি হিটও থাকতে পারে।

প্রশ্ন: ফ্রন্টফুট নো বল কীভাবে বোঝা যায়?

উত্তর: বোলারের সামনের পায়ের নির্ধারিত অংশ পপিং ক্রিজের পেছনে না থাকলে ফ্রন্টফুট নো বল হয়। টেলিভিশন রিপ্লেতে পায়ের অবস্থান, ক্রিজের রেখা এবং মাটির সঙ্গে পায়ের সংযোগ একসঙ্গে দেখা হয়। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১.৫ এই বিষয়ে মূল নির্দেশ দেয়, আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ম্যাচে তৃতীয় আম্পায়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে পারেন।

প্রশ্ন: নো বল ও ওয়াইডের পার্থক্য কী?

উত্তর: নো বল মূলত বোলারের ডেলিভারি-পদ্ধতির অবৈধতা, আর ওয়াইড হলো ব্যাটারের স্বাভাবিক নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বল। দুটির ক্ষেত্রেই সাধারণত ১ অতিরিক্ত রান হয় এবং বল আবার করতে হয়, কিন্তু নো বলে ব্যাটার বল খেলে রান নিতে পারেন। একই ডেলিভারিতে নো বলের শর্ত পূরণ হলে নো বল সাধারণত ওয়াইডের ওপর প্রাধান্য পায়।

প্রশ্ন: নো বলে ব্যাটার কি আউট হতে পারেন?

উত্তর: নো বলে ব্যাটার বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ বা স্টাম্পড হতে পারেন না, তবে রান আউট, অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড এবং দুইবার বল মারার মতো আউট প্রযোজ্য থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যাটার রান নিতে গিয়ে ক্রিজের বাইরে থাকলে ফিল্ডার স্টাম্প ভেঙে রান আউট করতে পারেন। তাই নো বল মানেই সম্পূর্ণ নিরাপদ ডেলিভারি নয়।

প্রশ্ন: নো বলের পর কি সবসময় ফ্রি হিট হয়?

উত্তর: নো বলের পর ফ্রি হিট সবসময় হয় না; এটি প্রতিযোগিতার ফরম্যাট ও খেলার শর্তের ওপর নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ও একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে সাধারণত ফ্রি হিটের বিধান থাকে, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত থাকে না। ২০২৬ সালের নির্দিষ্ট ম্যাচে সিদ্ধান্ত নিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আয়োজক বোর্ডের খেলার শর্ত দেখুন।

প্রশ্ন: কোমরের ওপর ফুলটস কেন নো বল?

উত্তর: ব্যাটার স্বাভাবিকভাবে পপিং ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকলে পিচে না পড়ে কোমরের ওপর দিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক ফুলটস নো বল হতে পারে। বলের উচ্চতা ব্যাটারের অবস্থান ধরে বিচার করা হয়, বোলারের উচ্চতা ধরে নয়। আম্পায়ার সতর্কতা, বোলিং নিষেধাজ্ঞা বা প্রতিযোগিতার শাস্তিমূলক ধাপ প্রয়োগ করতে পারেন।

প্রশ্ন: আম্পায়ার নো বল না ডাকলে কী করা উচিত?

উত্তর: প্রথমে আম্পায়ারের সংকেত, স্কোরবোর্ড এবং ম্যাচের পর্যালোচনা ব্যবস্থা যাচাই করা উচিত। আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফ্রন্টফুট নো বলের জন্য তৃতীয় আম্পায়ারের হস্তক্ষেপ থাকতে পারে, কিন্তু সব ঘরোয়া ম্যাচে ভিডিও পর্যালোচনা থাকে না। পূর্ণ ভিডিও, বল-বাই-বল তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতার নিয়ম ছাড়া আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে ভুল বলা ঠিক নয়।

নো বলের নিয়ম আরও পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে চাইলে শেষবারের মতো এই নির্দেশিকাটি দেখে নিন।

আরও জানুন

§
❦

ব্যাটিং নোটস · Editorial Vault

সম্পর্কিত নিবন্ধ