বিষয়বস্তুতে যান বিষয়বস্তুতে যান
প্রিমিয়াম বিশ্লেষণ

ক্রিকেটপ্রেমীর ডিআরএস গাইড

ক্রিকেটে ডিআরএস মূলত মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত যাচাই করার প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়মে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ব্যবহৃত হয়। ব্যাটিং নোটস-এর পাঠকদের জন্য...

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ 5 min read
ক্রিকেটপ্রেমীর ডিআরএস গাইড
❦

ক্রিকেটপ্রেমীর ডিআরএস গাইড

ক্রিকেটে ডিআরএস মূলত মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত যাচাই করার প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়মে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ব্যবহৃত হয়। ব্যাটিং নোটস-এর পাঠকদের জন্য সহজ করে বললে, খেলোয়াড়ের সন্দেহজনক আউট, এলবিডব্লিউ, ক্যাচ বা রান-আউটের ক্ষেত্রে তৃতীয় আম্পায়ার ভিডিও, আল্ট্রাএজ এবং বল ট্র্যাকিং দেখে সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করেন। সাধারণত অধিনায়ককে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে রিভিউ চাইতে হয়, আর এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তে বলের ইমপ্যাক্ট, পিচিং ও উইকেট-হিটিং—এই তিনটি বিষয় দেখা হয়। প্রযুক্তি ভুল ধরতে সাহায্য করে, কিন্তু প্রতিটি সিদ্ধান্ত বদলায় না; আম্পায়ার্স কল বহাল থাকতে পারে। তাই ডিআরএসকে জাদুকরী সমাধান ভাবা ঠিক নয়। রিভিউ নেওয়ার আগে সিদ্ধান্তের ধরন, সময়সীমা এবং সম্ভাব্য আম্পায়ার্স কল বুঝে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল।

[ছবির বর্ণনা: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে তৃতীয় আম্পায়ারের কন্ট্রোল রুমে একাধিক স্ক্রিনে ডিআরএস রিপ্লে দেখা যাচ্ছে]

প্রথমে একটি জেদি কিন্তু দরকারি নিয়ম মনে রাখুন: ডিআরএস মানেই মাঠের সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভুল প্রমাণ হবে—এমন নয়। এটি একটি যাচাই-প্রক্রিয়া, যেখানে প্রযুক্তি এবং আম্পায়ারের ব্যাখ্যা একসঙ্গে কাজ করে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে সম্প্রচারকারী সংস্থা সাধারণত হক-আই বল ট্র্যাকিং, আল্ট্রাএজ, স্পাইক মাইক্রোফোন, উচ্চগতির ক্যামেরা এবং আলাদা রিপ্লে সিস্টেম ব্যবহার করে; তবে কোন প্রযুক্তি থাকবে, তা প্রতিযোগিতা ও সম্প্রচার চুক্তির ওপর নির্ভর করতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ডিআরএস নির্দেশিকা এবং মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের ক্রিকেট আইন এই ব্যবস্থার প্রামাণ্য ভিত্তি বোঝার ভালো শুরু। এখানেই অনেক দর্শক ভুল করেন—টেলিভিশনে পরিষ্কার ছবি দেখা গেলেও সিদ্ধান্ত বদলানোর জন্য নিয়মে নির্ধারিত প্রমাণের মান পূরণ করতে হয়।

আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা ও ম্যাচ বিশ্লেষণ দেখতে চাইলে ব্যাটিং নোটস-এর ক্রিকেট তথ্যভাণ্ডার দেখে নিতে পারেন।

আরও জানুন

আসল কথা কী?

ডিআরএস কীভাবে কাজ করে—এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সীমিত রিভিউ নিয়ে তৃতীয় আম্পায়ার নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত প্রমাণ পরীক্ষা করেন। প্রমাণ সিদ্ধান্ত বদলানোর মতো শক্তিশালী হলে সিদ্ধান্ত পাল্টায়; না হলে আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

ডিআরএসের তিনটি মূল স্তর আছে: রিভিউ চাওয়া, প্রযুক্তিগত প্রমাণ পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা। ব্যাটার বা ফিল্ডিং অধিনায়ক রিভিউ চাইলে মাঠের আম্পায়ার ইঙ্গিত দেন, তৃতীয় আম্পায়ার প্রথমে দেখেন সিদ্ধান্তটি রিভিউযোগ্য কি না। এরপর তিনি দৃশ্যমান ক্যামেরা, শব্দভিত্তিক বিশ্লেষণ, বলের গতিপথ এবং প্রয়োজনে স্নিকোমিটার-জাতীয় তথ্য যাচাই করেন। এলবিডব্লিউতে বল ব্যাটে লেগেছিল কি না, বল কোথায় পিচ করেছে, ইমপ্যাক্ট কোথায় হয়েছে এবং বল স্টাম্পে লাগত কি না—এই ধারাবাহিকতা ভাঙা যায় না। ক্রিকেট আইনে ব্যবহৃত “স্পষ্ট এবং সুস্পষ্ট ভুল” ধারণাটি এখানেও গুরুত্বপূর্ণ; সামান্য সন্দেহ থাকলে মাঠের সিদ্ধান্ত সাধারণত টিকে যায়। ডিআরএসের ইতিহাস ও প্রযুক্তিগত কাঠামো দেখলে বোঝা যায়, এটি শুধু রিপ্লে দেখার নাম নয়।

ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ নিয়মের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা

রিভিউ নেওয়ার সময় কী দেখা যায়?

রিভিউয়ের শুরুতেই তৃতীয় আম্পায়ার পরীক্ষা করেন বলটি বৈধ ছিল কি না, মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত কী ছিল এবং রিভিউয়ের অনুরোধ নির্ধারিত সময়ে করা হয়েছে কি না। এরপর ঘটনার ধরন অনুযায়ী ক্যাচ, এলবিডব্লিউ, রান-আউট, স্টাম্পিং বা নো-বল যাচাই হয়। মাঠের আম্পায়ার নট আউট দিলে এলবিডব্লিউতে বল ট্র্যাকিংয়ের ফলাফল যতই কাছাকাছি হোক, আম্পায়ার্স কল হলে নট আউটই থাকে।

প্রযুক্তির প্রতিটি অংশ আলাদা প্রশ্নের উত্তর দেয়। আল্ট্রাএজ ব্যাট ও বলের সম্ভাব্য সংস্পর্শে শব্দের সংকেত খোঁজে; বল ট্র্যাকিং পিচের পর বলের কাল্পনিক গতিপথ দেখায়; উচ্চগতির ক্যামেরা ব্যাট মাটির ওপর ছিল কি না বা ক্যাচ পরিষ্কারভাবে নেওয়া হয়েছে কি না যাচাই করে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, শব্দের স্পাইক একাই সবসময় ব্যাটে লাগার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়—ব্যাট মাটিতে ঘষা, প্যাডের নড়াচড়া বা স্টাম্পের শব্দও সংকেত তৈরি করতে পারে। তাই তৃতীয় আম্পায়ারকে একাধিক দৃশ্য ও শব্দ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ডিআরএসে আল্ট্রাএজ ও বল ট্র্যাকিংয়ের পার্থক্য

মাঠের খেলোয়াড়রা আসলে কী দেখেন?

মাঠের খেলোয়াড়রা ডিআরএসে সরাসরি পুরো প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ দেখেন না; তারা মাঠের আম্পায়ারের সংকেত, বড় পর্দার রিপ্লে এবং শেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করেন। ব্যাটার বা ফিল্ডারকে রিভিউ চাওয়ার আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আম্পায়ারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হয়, আর দলীয় সহকর্মীরা ইশারায় সিদ্ধান্তে সাহায্য করতে পারেন।

খেলোয়াড়ের চোখে ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটে: বল প্যাডে লাগে, ফিল্ডিং দল আবেদন করে, আঙুল ওঠে, তারপর অধিনায়ক রিভিউ নেন। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ারের ঘরে একই ঘটনাকে ধাপে ধাপে ভাঙা হয়। ক্যাচের ক্ষেত্রে বল মাটিতে ছুঁয়েছে কি না, আঙুলের নিচে বল আটকে ছিল কি না এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল কি না দেখা হয়। স্টাম্পিংয়ে ব্যাটের অংশ ক্রিজের ভেতরে ছিল কি না যাচাই করা হয়। রান-আউটে ব্যাট বা শরীরের অংশ ক্রিজের পেছনে পৌঁছানোর মুহূর্ত এবং বেল পড়ার মুহূর্ত মিলিয়ে দেখা হয়। এই কারণেই একটি স্থির ছবি বিভ্রান্তিকর হতে পারে; কয়েক ফ্রেম আগে-পরে দেখলেই ফল বদলে যেতে পারে।

আম্পায়ার্স কল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আম্পায়ার্স কল হলো এমন ফল, যেখানে প্রযুক্তিগত পূর্বাভাস খুব কাছাকাছি থাকায় মাঠের আম্পায়ারের মূল সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। এলবিডব্লিউতে বলের ইমপ্যাক্ট বা স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনা সীমারেখায় থাকলে এটি দেখা যায়; ফলে রিভিউ ব্যবহার করেও দল আগের সিদ্ধান্তই পেতে পারে।

এটি অনেক দর্শকের কাছে বিরক্তিকর, কিন্তু যুক্তিটি হলো প্রযুক্তির সীমা স্বীকার করা। বল ট্র্যাকিং বলের ভবিষ্যৎ গতিপথের মডেল দেখায়, ক্যামেরায় ধরা সরাসরি বাস্তবতা নয়। পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও উইকেট-হিটিংয়ের নির্দিষ্ট সীমায় অনিশ্চয়তা থাকলে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। দুটি ভুল ধারণা সরিয়ে ফেলুন: আম্পায়ার্স কল মানে প্রযুক্তি ব্যর্থ নয়, আবার রিভিউ নষ্ট হওয়া মানে অধিনায়ক বোকা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এটিও নয়। অধিনায়ককে পরিস্থিতি, ম্যাচের স্কোর, ব্যাটারের মূল্য এবং হাতে থাকা রিভিউ—সব একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। ক্রিকেটে আম্পায়ার্স কল নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর

এই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে—নিয়মের ব্যবহারিক দিকগুলো আরও দেখে নিন।

আরও জানুন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় কোনগুলো?

ডিআরএস বোঝার জন্য তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে: রিভিউয়ের সময়সীমা, সিদ্ধান্তের ধরন এবং প্রযুক্তির প্রমাণের সীমা। এই তিনটি আলাদা না করলে দর্শক সহজেই রিপ্লে দেখে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

১. সময়সীমা: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাধারণত ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে রিভিউ চাওয়া হয়। সতীর্থের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করলে সুযোগ শেষ হয়ে যেতে পারে।
২. মাঠের সিদ্ধান্ত: আউট বা নট আউট—মূল সিদ্ধান্ত কোনটি ছিল, তা রিভিউয়ের ঝুঁকি নির্ধারণ করে। নট আউট থেকে আউট প্রমাণে স্পষ্ট প্রমাণ দরকার।
৩. রিভিউয়ের ধরন: এলবিডব্লিউতে বল ট্র্যাকিং, ক্যাচে আল্ট্রাএজ ও ভিডিও, রান-আউটে ফ্রেম-বাই-ফ্রেম বিশ্লেষণ—প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রমাণের কাঠামো আলাদা।

আরেকটি ব্যবহারিক বিষয় হলো রিভিউ হারালে সব প্রতিযোগিতায় একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। টেস্ট ক্রিকেটে নির্দিষ্ট সংখ্যক রিভিউ এবং সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আলাদা ব্যবস্থাপনা থাকতে পারে; প্রতিযোগিতার খেলার শর্তই চূড়ান্ত। তাই ভারত, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের ম্যাচ দেখলেও শুধু ফরম্যাট দেখে রিভিউ সংখ্যা অনুমান করা নিরাপদ নয়।

[ছবির বর্ণনা: স্কোরবোর্ডে আম্পায়ার্স কল লেখা, পাশে এলবিডব্লিউ বল ট্র্যাকিংয়ের রঙিন রেখা]

এলবিডব্লিউ রিভিউ কীভাবে ধাপে ধাপে হয়?

এলবিডব্লিউ রিভিউতে তৃতীয় আম্পায়ার সাধারণত চারটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন: বল বৈধ ছিল কি না, ব্যাটে আগে লেগেছিল কি না, বল কোথায় পিচ করেছে এবং ইমপ্যাক্ট ও সম্ভাব্য স্টাম্প-হিট কী ছিল। এই ক্রমের যেকোনো ধাপে মাঠের সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রমাণ মিললে সিদ্ধান্ত বদলানোর সম্ভাবনা কমে যায়।

এখানে একটি কম আলোচিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তিক অবস্থা আছে: বল স্টাম্পে লাগবে কি না বোঝার জন্য বল ট্র্যাকিংয়ের শেষ অংশটি কাল্পনিক পূর্বাভাস, সরাসরি ক্যামেরা-দৃশ্য নয়। তাছাড়া ব্যাটার শট খেলতে এগিয়ে এলে ইমপ্যাক্ট পয়েন্ট, বল পিচ করার জায়গা এবং ব্যাটার শরীরের অবস্থান একসঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়। শুধু “বল স্টাম্পে লাগত” বললেই এলবিডব্লিউ হয় না; ব্যাটে আগে লেগেছিল কি না এবং পিচিংয়ের নিয়মও পূরণ করতে হয়। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ৩৬-এর অধীনে এলবিডব্লিউয়ের এই শর্তগুলো বোঝা যায়। “বল অবশ্যই ব্যাটে আগে লাগেনি”—এই নীতিটি রিভিউ বিশ্লেষণের কেন্দ্রে থাকে।

কোন প্রান্তিক পরিস্থিতিতে ডিআরএস বিভ্রান্ত করে?

ডিআরএস সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর হয় যখন বল ও ব্যাটের সংস্পর্শ খুব সামান্য, ক্যাচ নিচু অবস্থায় নেওয়া, বেলের আলো জ্বলার ক্ষণ, অথবা এলবিডব্লিউয়ের সীমারেখা একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকে। এই পরিস্থিতিতে দর্শক সাধারণত একটি রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত চান, কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ারকে একাধিক ক্যামেরা ও নিয়মের স্তর মিলিয়ে বিচার করতে হয়।

কিছু বিশেষ সতর্কতা মনে রাখুন:

  • আল্ট্রাএজে স্পাইক থাকলেই ব্যাটে বল লেগেছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না; একই সময়ে ব্যাট মাটিতে লাগলে শব্দ তৈরি হতে পারে।
  • বল ট্র্যাকিংয়ের লাল, হলুদ বা সবুজ ফলাফল প্রযুক্তির উপস্থাপন; এগুলোকে মাঠের সিদ্ধান্ত থেকে আলাদা করে পড়া যায় না।
  • ক্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ক্ষণ এক ফ্রেমে ধরা পড়তে পারে, তাই স্লো-মোশন ও বিভিন্ন কোণ জরুরি।
  • নো-বল আগে যাচাই না করে রান-আউট বা ক্যাচের ফল চূড়ান্ত করা যায় না।
  • রিভিউয়ের সময় শেষ হয়ে গেলে পরে পাওয়া নতুন ভিডিও দিয়ে দল সাধারণত সিদ্ধান্ত পুনরায় খুলতে পারে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রন্ট-ফুট নো-বল ধরতে তৃতীয় আম্পায়ারের সহায়তা বেড়েছে, কিন্তু প্রযুক্তি থাকলেও ক্যামেরার কোণ, দৃশ্যমানতা ও সম্প্রচার কাঠামো ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই “টেলিভিশনে দেখা গেছে” এবং “নিয়ম অনুযায়ী প্রমাণিত হয়েছে”—এই দুটি বাক্য এক নয়।

আরও একটি তথ্য মনে রাখা দরকার: কিছু প্রতিযোগিতায় ডিআরএস চালু থাকলেও সব ম্যাচে একই সংখ্যক ক্যামেরা, একই বল ট্র্যাকিং সরবরাহকারী বা একই রিভিউ-নীতিমালা থাকে না। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রতিযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজের খেলার শর্ত আলাদা হতে পারে। ম্যাচ শুরুর আগে অফিসিয়াল খেলার শর্ত প্রকাশ করা হলে সেটিই নির্ভরযোগ্য উৎস; সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো পুরনো নিয়ম নয়।

[ছবির বর্ণনা: তৃতীয় আম্পায়ার রান-আউটের শেষ ফ্রেম পরীক্ষা করছেন, অন্ধকার কন্ট্রোল রুমে নীল আলো জ্বলছে]

জটিল সিদ্ধান্তের পেছনের নিয়ম ও প্রযুক্তি একসঙ্গে বুঝতে এই ব্যাখ্যাটি সংরক্ষণ করে রাখুন।

আরও জানুন

ডিআরএসের চূড়ান্ত মূল্যায়ন কী?

ডিআরএস ক্রিকেটে ন্যায্যতা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে স্পষ্ট ক্যাচ, রান-আউট, ব্যাট-প্যাডের সংস্পর্শ এবং ফ্রন্ট-ফুট নো-বল যাচাইয়ে। তবে এটি আম্পায়ারকে সরিয়ে দেয়নি; বরং মাঠের সিদ্ধান্তকে প্রযুক্তিগত প্রমাণের সঙ্গে যাচাই করার একটি নিয়ন্ত্রিত পথ তৈরি করেছে।

সবচেয়ে ভালো ব্যবহার হলো ডিআরএসকে শেষ ভরসা নয়, সম্ভাব্য ভুল কমানোর সরঞ্জাম হিসেবে দেখা। অধিনায়কের জন্য বাস্তব কৌশল হতে পারে—প্রথমে সতীর্থের প্রতিক্রিয়া শুনুন, তারপর সিদ্ধান্তের ধরন নির্ধারণ করুন, সময়সীমার মধ্যে পরিষ্কার সংকেত দিন এবং আম্পায়ার্স কলের সম্ভাবনা বিবেচনা করুন। দর্শকের জন্য নিয়মটি আরও সরল: একটি রিপ্লে নয়, সিদ্ধান্তের পুরো ধাপ দেখুন। আল্ট্রাএজ, বল ট্র্যাকিং এবং ক্যামেরা—তিনটির কোনটি কী প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, সেটি বুঝলেই বিতর্ক অনেক কমে যায়। ব্যাটিং নোটস-এ ম্যাচ পর্যালোচনা পড়ার সময় এই কাঠামো ব্যবহার করলে আলোচনাও বেশি নির্ভুল হবে।

সুতরাং রায়টি পরিষ্কার: ডিআরএস নিখুঁত নয়, কিন্তু নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এটি ক্রিকেটের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও স্বচ্ছ, যাচাইযোগ্য এবং ন্যায়সংগত করে।

আপনার পরের ম্যাচ বিশ্লেষণ আরও তথ্যভিত্তিক করতে এই নির্দেশিকাটি কাজে লাগান।

আরও জানুন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: ক্রিকেটে ডিআরএস কী?

উত্তর: ডিআরএস হলো মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করার ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়মে খেলোয়াড় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিভিউ চাইতে পারেন, এরপর তৃতীয় আম্পায়ার ভিডিও, আল্ট্রাএজ ও বল ট্র্যাকিং পরীক্ষা করেন। প্রমাণ যথেষ্ট হলে সিদ্ধান্ত বদলায়, না হলে আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

প্রশ্ন: ডিআরএসে এলবিডব্লিউ কীভাবে যাচাই করা হয়?

উত্তর: এলবিডব্লিউ রিভিউতে প্রথমে দেখা হয় বল ব্যাটে আগে লেগেছিল কি না, তারপর পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হয়। বল ট্র্যাকিং সম্ভাব্য গতিপথ দেখায়, কিন্তু আম্পায়ার্স কল হলে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। তাই শুধু বল স্টাম্পে লাগত কি না দেখলেই পূর্ণ এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্ত হয় না।

প্রশ্ন: আল্ট্রাএজ এবং বল ট্র্যাকিংয়ের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: আল্ট্রাএজ ব্যাট ও বলের সম্ভাব্য সংস্পর্শের শব্দ বিশ্লেষণ করে, আর বল ট্র্যাকিং বলের গতিপথ ও স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনা দেখায়। আল্ট্রাএজ মূলত ক্যাচ বা ব্যাট-প্যাডের প্রশ্নে ব্যবহৃত হয়। বল ট্র্যাকিং প্রধানত এলবিডব্লিউয়ের পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও উইকেট-হিটিং যাচাই করে।

প্রশ্ন: রিভিউ নিলে কি সিদ্ধান্ত সবসময় বদলে যায়?

উত্তর: না, রিভিউ নিলেই সিদ্ধান্ত বদলায় না। তৃতীয় আম্পায়ারকে স্পষ্ট ও নিয়মসম্মত প্রমাণ পেতে হয়; আম্পায়ার্স কল হলে আগের সিদ্ধান্তই থাকে। বিশেষ করে এলবিডব্লিউতে বলের ইমপ্যাক্ট বা স্টাম্প-হিটিং সীমারেখায় থাকলে রিভিউ দলকে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।

প্রশ্ন: ডিআরএস রিভিউ চাইতে কত সময় পাওয়া যায়?

উত্তর: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাধারণত সিদ্ধান্তের পর ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে রিভিউ চাওয়া হয়। এই সময়ে অধিনায়ক সতীর্থদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করতে পারেন, কিন্তু অতিরিক্ত দেরি করলে আবেদন গ্রহণ করা হয় না। নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতার খেলার শর্তে সামান্য পরিবর্তন থাকতে পারে, তাই ম্যাচের অফিসিয়াল নিয়মই চূড়ান্ত।

প্রশ্ন: ডিআরএস কাজ না করলে কী হয়?

উত্তর: প্রযুক্তিগত ত্রুটি, পর্যাপ্ত ক্যামেরা না থাকা বা বল ট্র্যাকিং অনুপলব্ধ হলে তৃতীয় আম্পায়ার উপলব্ধ ভিডিও ও মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেন। সব প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ না করলেও রিভিউ প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। তবে প্রয়োজনীয় প্রমাণ না পাওয়া গেলে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

প্রশ্ন: ডিআরএস কি সব ক্রিকেট লিগে একইভাবে ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: না, ডিআরএসের প্রযুক্তি, রিভিউ সংখ্যা ও নো-বল যাচাইয়ের নিয়ম প্রতিযোগিতাভেদে আলাদা হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ম্যাচ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ক্যামেরা ও খেলার শর্ত এক নয়। ম্যাচ শুরুর আগে প্রকাশিত অফিসিয়াল খেলার শর্ত দেখে রিভিউয়ের প্রকৃত নিয়ম নিশ্চিত করা উচিত।

ক্রিকেট ম্যাচ বিশ্লেষণ ও খেলোয়াড় পরিসংখ্যানের নির্দেশিকা

§
❦

ব্যাটিং নোটস · Editorial Vault

সম্পর্কিত নিবন্ধ